Logo
table-post
বাগেরহাটে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা, নিহত ১, আহত অন্তত ৯০
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

নির্বাচন শেষ হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাগেরহাট। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে গত দুই দিনে অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এক যুবক, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে একাধিক উপজেলায়

ভোটের আগের রাত থেকেই সদর ও কচুয়া উপজেলায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ফল ঘোষণার পর সেই উত্তেজনা রূপ নেয় সহিংসতায়। জেলা জুড়ে প্রায় ৩০টির মতো ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সদর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে হামলা-পাল্টা হামলায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের অন্তত ১৪টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ এলাকাতেও আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরপাড়া ও পারনওয়াপাড়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আরপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে খুলনার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সন্ধ্যার দিকে পারনওয়াপাড়া ও কচুয়ার ছিটাবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম (ঘোড়া প্রতীক) ও বিএনপি প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে ওসমান সরদার নামের এক যুবককে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি পারনওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে বিয়ে করা ওসমান একটি শিশুপুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

স্থানীয়রা জানান, পারনওয়াপাড়া ও ছিটাবাড়ি গ্রামের মাঝখানের একটি সরু খাল দুই উপজেলাকে আলাদা করেছে। বিকেলের দিকে এক পক্ষের মিছিল অপর পক্ষের এলাকায় ঢুকে পড়লে উত্তেজনা চরমে ওঠে। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে দুই পাড়েই। পরে আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল ও খুলনায় পাঠানো হয়।

এক আহত ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ভোট দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও হামলার চেষ্টা হলে গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলাতেও উত্তেজনা

মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় গত দুই দিনে অন্তত ছয় দফা সংঘর্ষে ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া কচুয়ার চন্দ্রপাড়া, আন্ধারমানিক ও গোপালপুর এলাকায়ও সংঘর্ষে আহত হয়েছেন একাধিক নেতাকর্মী। মোংলার মাদুরপাল্টা এলাকাতেও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশের অবস্থান

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দায়ীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বর্তমানে জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

@bagerhat24.com