Logo
table-post
মোংলায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযানে শতাধিক দোকানের মধ্যে মাত্র ৬টিতে জরিমানা, ক্রেতাদের ক্ষোভ
01/01/1970 12:00:00

মাসুদ রানা,মোংলা 
রমজানের প্রথমদিনে মোংলার পৌর শহরের প্রধান বাজারের কয়েকটি দোকানে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ।

 এ সময় ৫ দোকানীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে বাজারের কয়েক শ' দোকানের মধ্যে মাত্র ৬ দোকানে অভিযানকে ঘিরে ভূক্তভোগী ক্রেতাদের মধ্যে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ অভিযান চালানো হয় জেলা প্রশাসকের দেয়া তথ্য ও নির্দেশনায়।

 ক্রেতারা বলছেন, রুটিন ওয়ার্ক অনুযায়ী বড় একটি বাজারে মাত্র ৬ দোকানে অভিযানটি মুলত লোক দেখানো। এতে উচ্চে মূল্যে বিক্রী করা পণ্যের বাজারে কোন প্রভাব পড়েনি। অসাধু দোকানীরা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রী করে ক্রেতাদেন পকেট কেটেই চলেছে। এ ছাড়া রমজান শুরু আগে বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মোংলায় স্থানীয় প্রশাসনের কোন ভূমিকাই দেখা যায়নি। 

রমজানের শুরুতে দ্রব্যমুল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নাম মাত্র ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকে প্রহসন বলছে স্থানীয়রা। 

পৌর শহরের বাসিন্দারা  বলেন, কয়েক শ দোকানের মধ্যে মাত্র  ৫ দোকানে ৬ হাজার টাকা জরিমানা। এটা মস্কারা ছাড়া আর কি। এটা কোন জরিমানা হলো? কবির হোসেন নামের এক সাধারণ ক্রেতা বলেন, জরিমানার নাম করে উপজেলা প্রশাসন তাদের লোক দেখান, অভিযানকে হালাল করতে চাচ্ছে। কাগজকলমে অভিযান দেখাতে হবে তাই দেখাচ্ছে তারা। 
সাইফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, এতে তো ক্রেতারা কোনভাবে উপকৃত হচ্ছেনা। জরিমানার পরক্ষণেই দোকানীরা নানা কৌশলে তাদের দন্ডকৃত টাকা আবারো ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছেন। 


বাজার করতে আসা খুশি নামে এক চাকরিজীবি নারী বলেন, এক-দুই দোকানে নয়, প্রকারভেদে  দোকানগুলোতে অভিযান চালানো জরুরী। এবং অধিক হারে জরিমানা করা উচিৎ, যাতে পুনরায় এমন কাজ করতে গেলে তাদের অন্তর কেঁপে ওঠে। তাহলেই ক্রেতারা উপকৃত হবে। 

মুহাম্মাদ আল মামুন  নামে শহরের এক বাসিন্দা জানান, কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, মাংস বাজার, মুরগী বাজার, মুদি বাজার, ফল বাজার মিলিয়ে মোংলা শহরের প্রধান বাজারে কয়েক শ নিত্য পণ্যের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে রমজানকে ঘিরে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রী করা হচ্ছে। প্রায় সব দোকানেই নেই বিক্রীর কোন মূল্য তালিকা।

অনেক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। যে কারণে মাঝে মধ্যে নামে মাত্র রুটিন ওয়ার্ক অনুযায়ী ভোক্তা অধিকার আইনে লোক দেখানো অভিযান চালানো হয়।

ক্রেতারা বলেন, রোজার আগে বেগুন ছিল ৩০ টাকা আর এখন ৬০টাকা, দ্বিগুণের বেশি। শসা ছিল ৫০ টাকা আর তা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। ২/৪ টাকা দাম বাড়তে পারে, তবে এতো কেন। রোজার আগের ৭শ টাকা কেজির খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৩শ টাকায়। এভাবে সকল ফল, সবজি, মাছসহ মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে বেসামালভাবে। 

অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নওসীনা আরিফ জানান, মোংলা শহরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলার আড়ৎসহ ৫ দোকানীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

এই জরিমানা কোন ধারায় করা হয়েছে, সেই ধারায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে, যেটি জরিমানা করা হয়েছে সেটি সর্বোচ্চ নাকি সর্বনিম্ন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার আইন দেখেন। এর বেশী বলতে পারবো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, জেলা প্রশাসকের দেয়া তথ্যানুযায়ী শহরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারো সাথে তাদের বিশেষ সখ্যতা নেই। 
 

@bagerhat24.com