আমেরিকায় বসেই নির্দেশ! হোগলাপাশায় চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলামের ছায়ায় নৃশংস হামলা, রক্তাক্ত গ্রামবাসী
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
মোরেলগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার নির্দেশেই এলাকায় নানা অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। দূরদেশ থেকে দেওয়া নির্দেশের জেরেই সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংস হামলা
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কিসমত বৌলপুর গ্রামের বাসিন্দা জহর আলী খার ছেলে আলামিন খান (৪৬)-এর বাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাজু শেখ, তুষার শেখ, সাব্বির কাজি, রুবেল শেখ, সাখায়েত শিকদার, এমরান খান, ভুট্টা খান, মিরাজ খন্দকার, রাব্বি শেখ ও বিলকিস বেগমসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে আলামিন খানকে বাইরে টেনে এনে মারধর করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং এক পা ভেঙে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলামিন খানকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় গভীর ক্ষত এবং পায়ে গুরুতর ভাঙন রয়েছে। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
তবে পরিবারের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিচার দাবিতে সোচ্চার পরিবার
আলামিন খান বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। তবুও পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।”
এলাকাবাসীর একাংশও অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন ঘটনা ঘটছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আহত আলামিন খান কবে ন্যায়বিচার পান।
