বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা আটক
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটে নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা শাপিন আলম রাকিব (২৬)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ পচা দিঘির এলাকা থেকে তাকে আটক করে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, রাকিব আলম কাড়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি। গত ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ফকিরহাট উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার এক নাবালিকা (১৭)কে হুসলা গ্রামে তার খালার বাড়িতে দেখা করতে যান। পরে সন্ধ্যার দিকে ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে নিয়ে রওনা হন।
অভিযোগে বলা হয়, পথিমধ্যে কিরণের বাগান এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করছিল। এ সময় রাকিব মোটরসাইকেল থামিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক বাগানের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে ধরা পড়লেও দলীয় পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে রাকিব ও তার সহযোগীরা সেখান থেকে সরে যান।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর মা মনোয়ারা বেগম প্রথমে ফকিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনি বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ৩) ও ২০২০ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ৭ ও ১০/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। যার অভিযোগ নম্বর ১১৮/২০২৫, তারিখ ২৮/১০/২০২৫।
আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত)-এর ওপর অর্পণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই রাকিব ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি এবং একাধিক সাক্ষীর বক্তব্য নিয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সঠিক প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছি। আশা করছি, ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।
