Logo
table-post
ভান্ডারিয়ায় সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনে কৃষক ও ফুল প্রেমিদের উচ্ছ্বাস
01/01/1970 12:00:00

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি

অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের সুবাতাস। এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষ,একই সাথে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে গম চাষের ।

অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেমন কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন, তেমনি হলুদ ফুলে ভরে ওঠা মাঠ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা

শীতের শেষ প্রান্তে সরিষার হলুদ ফুলে ঢাকা মাঠ দিগন্তজুড়ে যেন হলুদের চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।  মাঠজুড়ে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ একই সাথে গমের খেত দেখে যেন সবুজে ভরা প্রকৃতিকে নতুন রূপ দিয়েছে।

নানা রঙের পোশাকে ফুলপ্রেমীরা সরিষা ক্ষেতে ভিড় করছেন ছবি ও সেলফি তুলতে। মৌমাছি, প্রজাপতি ও নানা জাতের কীটপতঙ্গের আনাগোনা এবং মধু সংগ্রহের দৃশ্য পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মনোমুগ্ধকর।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ছয় টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ভান্ডারিয়া  উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলায় চলিতি মৌসুমে গম আবাদে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হেক্টর জমি।তবে লক্ষ্য মাত্রার কাছাকাছি ১৯ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে।

কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা ও গমের বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮ এবং বারি গম-৩৩ জাতের  আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

 কৃষক মোঃ খলিলুর রহমান ফরাজী বলেন,বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম অনেক বেশি। নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ বছর এক একর জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি একই সাথে গম চাষ করেছি । ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো লাভ করতে পারবো।

স্থানীয় কৃষক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন জানান,এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষা ও গম ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ফলন বেশি হবে বলে আশা করছি। বাজারে দাম ভালো পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

  উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কৃষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,এবার সরিষার ফলন খুব ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন বেশি পাওয়ার আশা করছি। যদি বাজারদর ঠিক থাকে তাহলে আমাদের ভালো লাভ হবে।

অন্য এক কৃষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন,সরিষা চাষে খরচ তুলনামূলক কম। ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা আবাদ করায় অতিরিক্ত আয় হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ চালাতে সুবিধা হবে।

সরিষা ও গম ক্ষেত দেখতে আসা কলেজছাত্রী আফরোজা আক্তার বলেন, পুরো মাঠ হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে। মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেছি। অন্যদিকে গম ক্ষেতে সবুজে ঘেরা প্রকৃতি।  ছবি তোলার জন্য দারুণ একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা ও গমের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উঠান বৈঠেকর মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ এবং যথাযথ পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আশা করছি, চলতি মৌসুমে সরিষা ও গম চাষে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন।

স্থানীয়দের মতে, সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

@bagerhat24.com