Logo
table-post
সুন্দরবন উপকূলে এমন আতঙ্কিত দুপুর আর আসেনি
01/01/1970 12:00:00

বাবুল সরদার
সুন্দরবন উপকূলে এমন আতঙ্কিত দুপুর আর আসেনি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা বেজে ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি গাছপালা সব ঝাঁকুনি দিতে থাকে। পুকুর-দিঘির পানিও দুলতে থাকে। এসময় সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্প, ভূমিকম্প বলে চিৎকার চেঁচামেচি করতে করতে শিুশু-বৃদ্ধ-যুবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বাইরে আসতে থাকেন। কেউ দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে থাকেন।  


অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী লীলা দেবনাথ তখন তাঁর ছেলের ছেলে শিশু দিপ্রজয়কে খাওয়াচ্ছিলেন। হটাৎ বিল্ডিংয়ে ঝাকুনি শুরু হলে তিনি ওই শিশুটিকে নিয়ে ভূমিকম্প, ভূমিকম্প বলে বাইরে বের হবার জন্য ছুটতে থাকেন। তাঁর ভাষায়, এমন ভূমিকম্প, এমন ঝাকুনি এ জীবনে আর কখনও হয়নি। সেকি দোলা ...।’


বাগেরহাট ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিতুল ইললাম থাকের বাসাবাটি এলাকার অত্যাধুনিক একটি বিল্ডিংয়ে। তিনি বলেন, একি ভূমিকম্প! এমনতো জীবনে কখনও হয়নি। সব যেন পাতার মত দুলতে থাকে। ভয়ে ...।’


গ্রীনহার্ট স্কুলের অধ্যক্ষ তিথি দেবনাথ বলেন, ওরে বাবা, সেকি বলব, খাট, চেয়ার টেবিল, পুরো ভবন কাঁপছিল। রান্ন ঘরের থালা-গ্লাস-কাপ-প্রিচ সব পড়ে গেছে। খুব ভয় পাইছি।’


স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম প্রায় ৭০ বছর বয়সী মো: সাঈদুর রহমান বলেন, এ জীবনে এ অঞ্চলে আর কখনও এমন বড় ভূমিকম্প টের পাইনি...। তখন মসজিদে জুম্মর নামাজে ছিলেন মুসল্লীরা। সব কেঁপে উঠল। আল্লাহ্ হেফাজত করেছেন।’


বাজোরের ব্যবসায়ী ইলিয়াছ হোসেন বলেন,  আমাদের এখানে বহু দোকানের মালামাল ঝাঁকুনির সময় পড়ে গেছে, ভেঙ্গে গেছে। আক্ষরিক অর্থে গোটা সুন্দরবন উপকূলীয় আঞ্চলে শুক্রবার দুপুরে অনুরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়।


আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। অনেকেই বাসা থেকে বাইরে নেমে আসেন। ভূমিকম্প, ভূমিকম্প বলে চিৎকার, চেঁচামেচি, কউে কউে দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে ঘর-বাড়ির বাইরে বের হতে শুরু করেন। শিশু থাকলে তাদের কোলে করে বের হতে থাকেন। এক কথায় ‘মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নারী-পুরুষ-যুবা-শিশু সকলের মধ্যে।  


চাকুরীজীবী রাফিজা বেগম থাকেন একটি পুরাতন সরকারী কোয়ার্টারে। তার দুই শিশু সন্তান মুকিত (৭) ও মুহিত (৩)। ছুুটির দিন হওয়ায় স্বামীসহ তারা সকলে ওই  কোয়ার্টারে ছিলেন। তার ভাষায়, ‘ভূমিকম্পে গোটা বিল্ডিং দুলতে শুরু করে। খাট, চেয়ার, টেবিল, সব কাপতে থাকে। ছেলে দুটোকে নিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বাইরে যাই। কি যে ভয় পেয়েছি, তার ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। দেয়ালের ফাটল আরও বড় হয়েছে। এখানে আর থাকতে পারবো না। ’’


এনজিও কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম মিলন বলেন, আমাদের ভবনটা এত জোরে কেঁপে ওঠে যে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমার জীবনে এত বড় ভূমিকম্প দেখিনি।’


বাজারের দোকানি শঙ্করসেন, বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো রাস্তা দিয়ে ভারী গাড়ী যাচ্ছে, আর তাই কেঁপে উঠছে। কিন্তু এত বেশি কাপতে থাকে, যা এর আগে হয়নি। তখন চারপশে ভূমিকম্প, ভূমিকম্প বলে চিৎকার শুনে সাথে সাথে রাস্তায় নেমে আসি।’’


বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো: বাতেন বতেন, কোন হতাহতের বা’ বড় ধরনের ক্ষতির খবর এখনও পাইনি। তবে খোঁজ-খবর নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বলা হয়েছে।’


প্রসঙ্গত: শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা বেজে ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা, যা রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪ ।

@bagerhat24.com