মোংলায় প্রতিবেশীর হামলায় স্কুল শিক্ষিকা রক্তাক্ত জখম
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
মোংলায় প্রতিবেশীর হামলায় রক্তাক্ত জখম হয়েছেন স্কুল শিক্ষিকা আবছানা ওরিন নামের এক নারী। তিনি বর্তমানে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও তার স্বামী শেখ গোলাম মোস্তফা জানান, তাদের প্রতিবেশীর সাথে গরু ও ভেড়া পালন নিয়ে তাদের ক্ষতিসাধন ঘটনায় মারামারির ঘটনা ঘটে । বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার স্ত্রীর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ।
তিনি আরো বলেন,আমি অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি এবং আমার স্ত্রী আবছানা ওরিন একজন শিক্ষক। তিনি পোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মরত শিক্ষিকা । দিগরাজ বালুরমাঠ মিয়াপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ।
তাদের প্রতিবেশী সুব্রত মন্ডল গরু ও ভেড়া পালন করে। ভেড়ার পাল ও গরু কয়েকবার তাদের বাড়ীর ভিতর থেকে বিভিন্ন প্রজাতীর ফল ও দামি দামি ফুলের গাছ নস্ট করে । বহুবার তাদের ভেড়া ও গরু বেধে লালন পালন করতে বলেছি। কিন্তু কথা না শুনে তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত তারা গরু ও ভেড়ার পাল ছেড়ে পালন করায় আমি ও এলাকা মানুষের ক্ষতি সাধন করে। এ বিষয়ে সকলে কাছে তিনি আগেই জানিয়ে রেখেছেন।
তাদের ভেড়ার পাল আমার বসত বাড়ীতে ঢুকিয়া বিভিন্ন গাছ খায় ও নষ্ট করে। তখন আমি ভেড়া তাড়িয়ে দিয়া ১টি ভেড়া আটকে রাখি। আমি ভেড়া আটকে রাখায় সুব্রত গং ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার সাবল ও লাঠি-সোটা নিয়া আমার বসত বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে এবং ভেড়া ছাড়িয়ে নেয় এবং আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি প্রতিবাদ করায় অতর্কিত আমার উপর হামলা করে এবং মারধর শুরু করে। তার ডাক চিতৎকারে স্ত্রী আবছানা ওরিন (৫২) দৌড়ে আসিয়া মারধর ঠেকাইতে গেলে তাকেও মারধর করে।
সুব্রত সাবল দিয়া আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে আঘাতে রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। সুব্রত ও তার দলবল আমার স্ত্রীর গায়ের স্বর্ণের চেইন, স্বর্ণের রুলি ও স্বর্ণের একটি আংটি ছিনিয়ে নেয়।
তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার স্ত্রীর রক্তাক্ত জখম ও কাঁটা স্থানে ৫টি সেলাই দিয়ে কর্তব্যরত ডাঃ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিবেশী সুব্রত সহ তার লোকজন হুমকি ধামকিতে তিনি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।
মারামারির ঘটনায় সুব্রত মন্ডল বাবু (২৯), সোনামনি মন্ডল পূজা (২৪), কার্তিক মন্ডল (৫২) সুপ্রিয়া মন্ডল (৪৯) জাহিদুল (৪৫) সহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকার স্বামী গোলাম মোস্তফা । তাদের সকলের বাড়ি দিগরাজ বালুর মাঠ মিয়াপাড়া, ০১নং ওয়ার্ড, বুড়িরডাঙ্গা এলাকায়।
এ বিষয় সুব্রত মন্ডলকে কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
মোংলা থানার ওসি শেখ শাহীনুর রহমান বলেন, মারামারির ঘটনায় ভুক্তোভোগীর স্বামী গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে একটি লিখত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মারামারির ঘটনার তদন্ত চলছে সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন মোংলা থানার এ কর্মকর্তা।
