বাগেরহাটে নানা বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পালিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটে নানা অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কর্মসূচি শুরু হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নারী দিবস উপলক্ষে একটি র্যালি বের হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও র্যালি শুরু হয়নি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে নিজের গাড়িতেই অপেক্ষা করতে থাকেন।
পরে জেলা প্রশাসক উপস্থিত হলে সকাল প্রায় ১০টার দিকে র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করার কথা থাকলেও মাত্র প্রায় ২৫০ গজ পথ অতিক্রম করে স্বাধীনতা উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর সেখানে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাদিয়া ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন এবং বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাহেলা পারভীনসহ অন্যান্যরা।
তবে অনুষ্ঠানস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বসার কোনো আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় সাংবাদিকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যায়।
র্যালি ও আলোচনা সভা চলাকালে কয়েকটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও তৈরি হতে দেখা যায়।
র্যালিতে অংশ নিতে আসা কয়েকজন নারী জানান, রমজান মাস হওয়ায় সকালেই অনেক দূর থেকে এসে দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হলে এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো না।
এসব বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। একই সঙ্গে সংবাদকর্মীরাও আয়োজনে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাহেলা পারভীন বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচি কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো অব্যবস্থাপনা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা অনেক সময় ছোট বিষয়কে বড় করে তুলে ধরেন।” পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
