চিতলমারীতে সংঘর্ষের পর ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় দুই বংশের দীর্ঘদিনের বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪০টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে চিংগড়ী গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।
ঘটনার পর তৃতীয় দিনেও এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে সংঘর্ষ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ পরিবারের পক্ষ থেকে মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে একটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বাস বংশের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান চালিয়ে রামদা, টেটা ও কাস্তেসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুমতি নদীর চরাঞ্চলের জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে ফুলকুচি দিয়ে আঘাত করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিশ্বাস বংশের লোকজন শেখ পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে প্রায় ৪০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। সংঘর্ষে রাজিব শেখ নামে একজন নিহত হন।
ঘটনার পর থেকে এলাকার অধিকাংশ পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তারা আবেদন করলে তাদের টিনসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
