মোংলায় হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসককে মারধর, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার ভোরের এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে ও থানার অভিযোগ সুত্রে, রোববার ভোরে বিষপান করা এক রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তাঁর স্বজনরা। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনুপম মজুমদারের সাথে রোগীর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে স্বজনরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন। এবং জরুরী বিভাগে ভাংচুর করে।
হামলাকারীরা কক্ষের ভেতরে থাকা চেয়ার ও কাঠের টুল তার দিকে এলোপাতাড়ি ছুড়ে মারেন ।এতে আহত হন চিকিৎসক।জরুরী বিভাগের আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ওই চিকিৎসক। আহত ওই চিকিৎসককে হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে রববিার সন্ধ্যায় চিকিৎসক অনুপম বাদি হয়ে মোংলা থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনাম আরো ৪ জন সহ একটি মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোঃ হাফিজুর রহমান মানিক হোসেন (৩৭) নামে একজনকে আটক করেছে। পরে দুপুরে তাকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।
হাসপাতালে থাকা একজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী তারেক বিন সুলতান মুছাফির বলেন, আমি ৩ দিন ধরে হাসপাতালে মায়ের সাথে আছি। মা অসুস্থ। ফজরের নামাজ পড়েতে যাবো সে সময় নিচে জরুরী বিভাগে সামনে হট্টগোল দেখতে পাই । একজন বিষপান রোগী আসে। স্বজন রা কর্তব্যবরত চিকিৎসকে ডাকা ডাকি করে । অন্যরুমে ঘুমে ছিলো চিকিৎসক। অনেক সময় পর পাশের রুম থেকে এসে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে জরুরী বিভাগে ঢুকে মোবাইল নিয়ে মোবাইল চাপাচাপিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। আমি রোগীকে রোগীর সাথে থাকা লোকজনের মধ্যে দুইজনকে দেখেছিে বিষপান করা স্থানের ওয়াস খানায় তাদের চিকিৎসা দিতে। তখন পাশে কোন চিকিৎসক ছিলো না বা হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কেউ ছিলো না। পরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে তর্কবিতর্ক করেন ওই মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত থাকা ডাক্তারের সাথে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে সে সময় । তবে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন রোগীরা আসে চিকিৎসা নিতে ডাক্তার মুল্যায়ন করে না। আমি কর্তব্যরত ডাঃ বা ডিউটি অবস্থায় সে সময় কোন ডাক্তারকে পাশে দেখতে পাইনি। ডাক্তারদের আরো সচেতন হওয়া দরকার রোগীদের প্রতি।
তবে অভিযুক্তদের একজন সজীব মিয়া শান্ত দাবি করেছেন, মুমূর্ষু রোগী ফেলে রেখে চিকিৎসক মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন এবং চিকিৎসার অবহেলার কারণেই সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহিন এই ঘটনাকে অত্যন্ত ’দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এমন সহিংসতা স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং এটি কর্মী ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তিনি এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন যাতে প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসে।
এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোংলা থানার উপ পরিদর্শক মোঃ মহররম আলি জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে এক অভিযুক্তকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
