সুন্দরবনে দস্যু দমনে জোরদার অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ অপহৃত
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও বনদস্যুদের তৎপরতা পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। বনজীবী, বিশেষ করে জেলে ও মৌয়ালদের এখনও চাঁদাবাজি ও অপহরণের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।
গত দেড় বছরে কোস্টগার্ডের পরিচালিত একাধিক অভিযানে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় সাতটি বনদস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে তাদের কবল থেকে মুক্তিপণের জন্য অপহৃত ৭৮ জন জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং প্রায় ১৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি। পাশাপাশি বনদস্যুদের কয়েকটি আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সুন্দরবনের বাইনতলা খালে পরিচালিত অভিযানে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য—মো. সোহাগ হাওলাদার ও বাবুল সানাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
মোংলা কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ ‘বিজিসিএস স্বাধীন বাংলা’র কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকিব ইমরান জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে করিম-শরিফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, আসাবুর, ছোট জাহাঙ্গীর ও জোনাব বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি দস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড গত দেড় বছর ধরে টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নদী-খাল ও দুর্গম বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
