Logo
table-post
বাগেরহাটে দিঘিতে কুমিরের হামলা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাটে ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরে টেনে নেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি।

গত বুধবার বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি পানিতে নামা একটি কুকুরকে আচমকা আক্রমণ করে এবং মুহূর্তেই পানির নিচে নিয়ে যায়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অসুস্থ কুকুর ধীরে ধীরে পানিতে নামছে। কিছু সময় পর সেটি আরও গভীরে গেলে কুমিরটি কাছে এসে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরটি বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি উঠে আসে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলেন, মাজারের খাদেমরা নিয়মিত কুমিরকে এমনভাবে খাবার দেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটির আগে কুকুরটি এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দিয়েছিল এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। এক পর্যায়ে এটি ঘাটের দিকে চলে আসে এবং পানিতে নামার পরই কুমিরের শিকার হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দিঘির অন্য প্রান্তে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে সেটি মাটিচাপা দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং আশপাশে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এমনকি একটি শিশুসহ কয়েকজন মানুষ এবং গৃহপালিত প্রাণীকেও আক্রমণ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়দের ধারণা—কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পেড়েছে, যার কারণে এটি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ফলে আশপাশে যেকোনো নড়াচড়ায় এটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে পানিতে ফেলেছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

এছাড়া কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা তা পরীক্ষার রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণীটিকে কুমিরের সামনে দিয়ে থাকে, তবে সেটি গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিঘিতে কুমিরকে কোনোভাবেই জীবন্ত প্রাণী খাওয়ানোর অনুমতি নেই। কুসংস্কারের কারণে কেউ এমন কাজ করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

উল্লেখ্য, খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে বর্তমানে মাত্র একটি কুমির জীবিত রয়েছে। অতীতে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে এটিই শেষ জীবিত সদস্য বলে জানা গেছে।

 

@bagerhat24.com