Logo
table-post
ভাণ্ডারিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে অগ্রগতি নেই ৬ মাসেও
01/01/1970 12:00:00

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের কর্মকর্তা শিল্পী হালাদার এর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নানা অয়িমের কারনে এ দপ্তরের কার্যক্রমে নানা সংকট বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাকে মাসিক নির্ধাতি হারে ফি পরিশোধ করে অফিস না করে মাসের পর মাস বেতন ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের তিনজন কর্মচারী। এদের মধ্যে উপজেলার ভিটাবাড়ীয়া ইউনিয়নের  পরিদর্শক আবদুল মতিন, তেলিখালী ইউনিয়নের পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার ও একই পরিবারের সদস্য পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার এর বিরুদ্ধে অফিস না করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এদিকে অফিসের কর্মচারী পরিবার কল্যাণ সহকারী আলো রানী পিআরএল গেলে তার লাম্পগ্রান্ট টাকা আজ পর্যন্ত দেয় নি। এদের সকলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন সেবা গ্রহিতা এলাকাবাসী।
জানাগেছে, গত ২৫ মার্চ বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ পেয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি তাদেরকে কাউকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তিনি ইতিপূর্বে বেশ কয়েক বার অফিস তালাবদ্ধও  পান। কিন্তু তিনি  শুধু তাদের একটি শোকজ দিয়ে শেষ করেন উর্ধতন কর্মকর্তার দায়িত্ব শেষ করেন। তারা চলে যাওয়ার পরে  তেলিখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অফিসের তালা খুলেন ওই পরিবারের সোহাগের বড় বোন আয়া নাজমা বেগম।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো, আবুল কালাম  ২৫ মার্চ  সরেজমিনে দুইটি অফিস পরিদর্শ করলে অভিযোগের সত্যতা পান । তিনি তৎক্ষনিক পিরোজপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক তুহিন কান্তি ঘোষ কে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করলেও প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নেয়নি  উপ-পরিচালক। তিনি এসকল কর্মচারীদের বাঁচাতে তার সব সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদারের  যোগ সাজসে।  এ কারণে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

অনুসন্ধান করে জানাগেছে, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিদর্শক আবদুল মতিন ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত থেকে পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর প্রদান করেন। প্রতিমাসে তিনি এ অনিয়ম করে আসছেন।  এ বিষয়ে  উপ-পরিচালক, পিরোজপুর পরিদশর্ন করলে এ অনিয়মের  সত্যতা পান।
ইউনিয়ন পরিদর্শক আবদুল মতিন গত ২১ জানুয়ারী হাজিরা দিয়ে ২২ জানুয়ারী থেকে ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত নিজ কর্মস্থল্মে অনুপস্থিত থেকে ওই মাসের শেষ দিন এসে পুরোমাসের হাজিরা খাতায় সাক্ষর করেছেন। ফ্রেরুয়ারী মাসে ৩ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত  অনুপস্থিত থাকেন যা বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক পরিদর্শন কালে দেখতে পান।

গত ২৪-২৫ মার্চ  অনুপস্থিত থাকলে এসময় বিভাগী পরিচালক অনুপস্থিত দেখেন এবং এবিষয় জেলা উপ-পরিচালকে  অবহিত করেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদারকে ম্যানেজ করে পরিদর্শক আবদুল মতিন ইচ্ছেমত অফিস করেন। এসব অনিয়মের পরও  উপজেলার ০৫ জন পরিদর্শক ও পরিবার কল্যান সহকারী ২২জন ও পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা ৫জন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার একজন (এসএসিএমও) এর সকলে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন  করে আসছে।

উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়ন পরিদর্শক সোহাগ সহ তিনজন কর্মচারী দেবর, ভাবী ও বোন মিলে তেলিখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা করেন।
পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন মানুষকে চাকুরীর প্রলোভনসহ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে একাধিক মামলা চলমান আছে।
তেলিখালী ইউনিয়ান পরিবার কল্যান সহকারী শারমীন আক্তার তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করলেও তিনি তেলিখালীতে কি ভাবে অফিস করেন তা এলকাবাসির প্রশ্ন। অপর দিকে একই অফিসে আয়া সোহাগ এর বোন  নাজমা আক্তার তিনিও একই ভাবে অফিস না করে বেতন ভাতা তুলে আসছেন ।
গত ২৫ মার্চ উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করলে তাদের হাতে তা প্রমান পেলেও  প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা।

এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদার তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অর্থ ইউনিট এর  উপজেলা ওয়ারি পরিবার পরিকল্পনা অফিস সমূহে (নন-ক্লিনিক) খাতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের কর্মচারীদের ভ্রমন ভাতা ব্যয় ও  অফিসের আনুস্বঙ্গি ব্যয় নির্বাহে সকলে ব্যয়ের কোড অনুযায়ী ব্যয় করা নিদের্শনা থাকলেও বরাদ্দের হার্ড কপি আসার আগেই  ইন্টিগ্রেটেট  বাজেট এন্ড একাউন্টিং সিস্টেম (আইভাস++) থেকে তিন ভ্রমন ভাতা বিল ৫৯ হাজার টাকা উত্তোলন  করেন। অথচ বরাদ্দের কপিতে তার নামে কোন টাকা আসে নাই। কিন্তু মার্ঠ কর্মীদের নামে ১ লক্ষ ২২ হাজার টাকা বরাদ্ধ পেলেও তিনি তাদেরকে না দিয়ে নিজে কর্মচারী ভ্রমন ভাতা আত্মসাত  করেন। অফিসের নামে মোটরসাইকেল অকেজো থাকলেও তার নামে ভূয়া বিল ভাউচার করে আত্মাসৎ করেন। তিনি ঝালকাঠী থাকেন প্রতিদিন  ইচ্ছা অনুয়ায়ী অফিস পরিচালনা করে থাকেন। তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভুগি  ব্যক্তিরা।  এদিকে শিল্পী হালদার অনিয়ম দুনীতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ক্ষমাশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে ধরনা দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালাদার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন টাকা উত্তোলন করতে কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না। কর্মচারীদের অনুপস্থিতের ব্যাপারে তিনি বলেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পেলে কি ভাবে ব্যবস্থা  নিবো। মাসকে মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত  থাকলেও সংশ্লিস্ট ইউনিয়নের দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনি ব্যবস্থা নিবেন। সে ক্ষেত্রে তার কোন দায়িত্ব নেই।

এ বিষয়ে উপ-পরিচালক তুহিন কান্তি ঘোষ বলেন, ইন্টিগ্রেটেট  বাজেট এন্ড একাউন্টিং সিস্টেম (আইভাস++) বরাদ্দ দিলেও বরাদ্দর চিঠি বিবাজনের আগেই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালাদার টাকা উত্তোলন করেন। মাঠপর্যায় কর্মীদের দেখবাল করার দায়িত্বে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার। তিনি রিপোর্ট করলে আমি জানতে পারব তখন আমি ব্যবস্থা নিব।

উল্লেখ্য গত ৭ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ভান্ডারিয়া পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পারিশ্রমিক-ভ্রমণ ভাতায় কমিশন বানিজ্য, আটকে থাকে ফাইল শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের পর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক তুহিন কান্তি ঘোষ, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানমকে ভান্ডারিয়া থেকে নেছারাবাদ উপজেলায় পত্রিকায় প্রকাশের দিন তাকে প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে বদলি করা হয়। এঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের নিদের্শ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় মাসেও তদন্ত রির্পোট আলোর মুখ দেখা যায়নি।

এব্যাপারে বিভাগী পরিচালক আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান প্রাথমিক একটি রির্পোট পেয়েছি। উক্ত কমিটির তদন্ত রির্পোটে অসংগতি থাকায় উচ্চ পর্যায় আর একটি  তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে রির্পোট পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়ম ও দুনীর্তি করে কেউ পার পাবে না।

@bagerhat24.com