বিএনপির নাম ব্যবহার করে চিতলমারীতে তাণ্ডব: দখল, লুটপাট, নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগে আতঙ্ক
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সিরামপুর মৌজায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২১ এপ্রিল ২০২৬ দুপুরে কালাম শিকদার, আউলিয়া শেখ ও মোহাম্মাদ শেখের নেতৃত্বে ১২-১৩ জনের একটি দল তাদের মাছের ঘের ও বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় সশস্ত্র ওই দল ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। প্রাণভয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার একপর্যায়ে মোহাম্মাদ শেখ ঘরে ঢুকে এক নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তার পরিহিত কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। পরে তাকে চুল ধরে টেনে বাইরে এনে মারধর করা হয়, যা এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি মোবাইল ফোনসহ ঘরের আইপিএস, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়, যার মোট মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। এরপর তারা টিনশেড একটি ঘর ও তিনটি গোলপাতার ঘরে ডিজেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়, ফলে ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
হামলার সময় দুর্বৃত্তদের হাতে লোহার রড, কুড়াল, রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে ঘের করে মাছ চাষ করে আসছিলেন। জমি নিয়ে পূর্বে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একই রাতেই হামলাকারীরা ঘেরে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ এবং একটি ডিজেলচালিত মেশিন লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের বিভিন্ন কাঠামো, টিউবওয়েল ও গাছপালাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এলাকা ছাড়ার হুমকির মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
