মোংলায় হোটেলে আপত্তিকর ভিডিও: ম্যানেজারসহ ২ গ্রেফতার, ১ পলাতক
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপনকালে দুই নারী এনজিও কর্মীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে হোটেল ম্যানেজারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোংলা থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলো মোংলা পোর্ট পৌর শহরের ‘সিঙ্গাপুর হোটেল’-এর ম্যানেজার মোঃ মহসীন (৪০) এবং হোটেলের কর্মচারী বনি আমিন (২৩)। এ মামলার অপর এক আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশাগত কাজে মোংলায় আসা দুই নারী এনজিও কর্মী গত মঙ্গলবার রাতে ওই সিঙ্গাপুর হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেন। তারা যখন তাদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষে অবস্থান করে ওয়াসরুমে গোসল করতে যান, তখন অভিযুক্তরা গোপনে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের গোপন ছিদ্র দিয়ে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করতে থাকে। বিষয়টি একপর্যায়ে ওই নারীদের নজরে আসে এবং তারা হাতেনাতে এর প্রমাণ পান। হোটেলের মতো একটি নিরাপদ স্থানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং থানা পুলিশকে অবহিত করে।
ঘটনার শিকার ওই দুই নারী রাতেই মোংলা থানায় উপস্থিত হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ওসি সহ মোংলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রাতেই হোটেলটিতে অভিযান চালায় এবং ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণসহ ম্যানেজার মহসীন ও কর্মচারী বনি আমিনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইলও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পলাতক বাকি আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এ ধরণের অপরাধের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বুধবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন পর্যটন শহর মোংলায় আবাসিক হোটেলের এমন ঘটনায় সাধারণ পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও আতংঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
