অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে শিক্ষকের জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ, বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত এক অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে জমি দখল, দোকানঘর ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক তালুকদার আলতাফ হোসেনের মেয়ে ফারজানা জান্নাত।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রামপাল উপজেলার প্রধান সড়ক এলাকায় ওয়ারিশসূত্র, দানপত্র ও কবলামূলে প্রাপ্ত জমিতে ভোগদখল করে আসছে। ওই জমিতে তিনতলা ভবনের পাশাপাশি চারটি দোকান ও দুটি পারিবারিক বাসা নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
তার দাবি, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক তাদের পাশের একটি জমি ক্রয় করার পর থেকেই তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তার নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে ভাড়ায় দেওয়া দোকানঘরে হামলা ও ভাঙচাল চালায়।
ফারজানা জান্নাত আরও বলেন, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে রামপাল থানার এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। পরে ১ এপ্রিল থানায় এজাহার দায়ের এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্তরা দোকান ও বসতঘর ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেয় এবং সেখানে নতুন করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। পাশাপাশি পরিবারটিকে নিয়মিত হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ অবস্থায় পরিবারটি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
