ঈদ উপহারে কম খাদ্যসামগ্রী, মোংলা বন্দরে শ্রমিক বিক্ষোভ
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের ঈদ উপহারের খাদ্য সামগ্রী কম দেওয়ার পট্রতিবাদে এবং সকল শ্রমিকের সমঅধিকার নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরাদ্দকৃত ঈদ উপহার বর্জন করে বন্দরের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তারা এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে বন্দর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকদের দেয়া থেকে জানা গেছে, মোংলা বন্দরে জাহাজে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি জেটি এলাকায় কর্মরত সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদেরও প্রতি বছর দুটি ঈদে নিয়মিতভাবে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট ৯৭৪ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিককে এই ঈদ উপহারের খাদ্য সামগ্রী দেয়ার প্রস্তুতি নেয় সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন। তবে এবারের আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ মাত্র ৭৫০ জন শ্রমিকের জন্য খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ করে। অর্থাৎ, পূর্বের তালিকা থেকে ২২৪ জন নিয়মিত শ্রমিককে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের দানা বাঁধে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ শুরু হলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উপহার বর্জন করে মোংলা বন্দরের মেইন গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা ¯েøাগান দিয়ে তাদের দাবি জানান। শ্রমিক প্রতিনিধিদের স্পষ্ট বক্তব্য, আমরা সবাই মিলে বন্দরে কাজ করি, তাই সুখ-দুঃখ সবার সমান। ২২৪ জন ভাইকে বাদ দিয়ে আমরা বাকিরা উপহার নিতে পারি না। প্রশাসনকে অবশ্যই সকল শ্রমিককে সমান ভাবে ঈদ উপহার দিতে হবে, অন্যথায় কোনো শ্রমিকই এই উপহারের প্যাকেট স্পর্শ করবে না। শ্রমিকদের এই অনড় অবস্থানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, বাদ পড়ার বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মাহমুদুন চৌধুরী ও তাদের এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্দরে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কিছু কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। যেসব শ্রমিকের কাছে বন্দরের বৈধ এবং হালনাগাদ করা 'শ্রমিক কার্ড' নেই, নিয়ম অনুযায়ী তাদের এবার উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত উপহার বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বৈধতা যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর থেকে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানাতো হয়, বন্দর জেটি এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে তারা কাজ করছে। সে জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন এবং মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর এসোসিয়েশন মিলে মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বছরে দুইটি ঈদের ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসছে। কিন্ত সিএনডএফ এসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ আমাদের জেটি এলাকায় কর্মরক শ্রমিকদের সাথে এমন আচারণ মেনে নেয়া হবে না। তারা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে টচাকা নিয়ে আমাদের কিছু অংশ শ্রমিকদের ঈদ সামগ্রী দিচ্ছে না। যদি সব শ্রকিদের ঈদ উপহার দেয়া না হয়, তবে প্রয়োজনে বন্দর জেটির কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকা হবে।
