Logo
table-post
উপকূল ও নৌপথে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের ১৮ পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তা
01/01/1970 12:00:00

মোংলা প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দেশবাসী যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উৎসবে মাতোয়ারা, তখন দেশের একদল বীর সন্তান নিজেদের সব সুখ-আহ্লাদ ও ঈদের খুশি বিসর্জন দিয়ে নিয়োজিত রয়েছেন দেশমাতৃকার সেবায়। উপকূলের সাধারণ মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রা, নৌপথের সার্বিক শৃঙ্খলা এবং দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি অক্ষুন্ন রাখতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সাগরে ও নদীতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এবারের নিরাপত্তায় ১৮ পয়েন্টে নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় রাখছে পশ্চিম জোন কোস্ট গার্ড।

দেশের উপকূলীয় এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি বিশেষ পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরাময়হীন ও নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ টিম। সাধারণ মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য কোনো ধরনের ছুটি না নিয়ে সাগরে ও উপকূলের প্রতিটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন কোস্ট গার্ডের জোয়ানরা। ঈদের আগে ও পরে নৌপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি বসানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চৌকি।

সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর আসায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বিশেষ দস্যুদমন অভিযান শুরু করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো উপকূলের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র জেলে ও বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কেবল মানুষের নিরাপত্তাই নয়, সুন্দরবনের অমূল্য বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় কোস্ট গার্ড কঠোর ভূমিকা পালন করছে। একই সাথে সমুদ্র ও নৌপথে যেকোনো ধরনের চোরাচালান রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড কঠোর হস্তে দমনের জন্য আধুনিক সরঞ্জামাদিসহ কোস্ট গার্ডের স্ট্রাইকিং ফোর্স সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া বন্দরে আসা দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্দরে অবস্থানরত ও বহির্নোঙরে থাকা জাহাজগুলো যাতে কোনো ধরনের চুরি বা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি না হয়, সেজন্য বিশেষ স্পিডবোট ও মেটাল শার্কের সাহায্যে ২৪ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার জন্য উপক’ল ও নদী-সাগরের মানুষগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।

সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশের সম্পদ রক্ষাই এই কোস্ট গার্ডের মূল ব্রত। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার এই বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম শুধুমাত্র ঈদের দিন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ঈদ উদযাপন শেষে সাধারণ মানুষ এবং কর্মজীবী যাত্রীরা যতক্ষণ না নিরাপদে তাদের কর্মস্থলে ফিরে আসছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নৌপথে কঠোর নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের ষ্টাফ অফিসার অপারেশন লে. কমান্ডার তানভির বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী চলাচল ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোস্ট গার্ড বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোস্ট গার্ডের আওতাধীন অন্যান্য জেলা ছাড়গাও মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন সহ উপক’লে এবং নৌরুটে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার এবং যেকোন দূর্ঘটনা মোকাবেলায় কোস্ট গার্ড ডুবুরী দল প্রস্তুত রয়েছে। অপ্রতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি, যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা যেন চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড সংগঠিত করতে না পারে তার জন্য সদা তৎপর রয়েছে কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা সাধারণ মানুষের মনে যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে, তেমনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের অবিচল দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

 

@bagerhat24.com