Logo
table-post
চিতলমারীতে আটককৃত ৫০ বস্তা সার অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00

চিতলমারী প্রতিনিধি
চিতলমারী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের আটককৃত ৫০ বস্তা সার অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩ জুন) বেলা ১২ দিকে মোল্লাহাটের চুনখোলায় নেওয়ার সময় মাছুয়ারকুল নামক স্থানে চিতলমারীর উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা ও শাহ নেওয়াজ উক্ত সার আটক করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আটকৃত সার তাৎক্ষনিক অরজিত মন্ডল নামের এক ব্যাক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। এভাবে বিক্রি করা অবৈধ ও নিয়ম বর্হিভূত বলে জানিয়েছেন চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত-আল-মারুফ। বৃহস্পতিবার (৪জুন) বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলায় বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক ও বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক এস এম আব্দুল হক দীর্ঘদিন ধরে মোল্লাহাটের চুনখোলা বাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছে গোপনে সার বিক্রি করে আসছিলেন।

গত বুধবার তিনি ৪০ বস্তা টিএসপি সার, ৮ বস্তা ডিএপি ও ২ বস্তা ইউরিয়া সোহেল নামের এক নছিমন ড্রাইভারের মাধ্যমে মোল্লাহাটে পাচার করছিলেন।

এ সময় চিতলমারীর উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা ও শাহ নেওয়াজ বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের মাছুয়ারকুল নামক স্থানে উক্ত সার দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা ওই সারের ক্যাশমেমো দেখতে চান। নছিমন চালক ক্যাশমেমো দেখাতে ব্যর্থ হলে তারা ওই সার আটক করেন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আটককৃত সার ক্যাশমেমোর মাধ্যমে মাছুয়ারকুল গ্রামের সার ব্যবসায়ী অরজিৎ মন্ডলের কাছে বিক্রি দেখানো হয়। অরজিত মন্ডল বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খুচরা সার বিক্রেতা অরবিন্দ মন্ডলের ছেলে। অরবিন্দ মন্ডল ২ বছর আগে মারা গেছেন।


শিবপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক ও বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক এস এম আব্দুল হক অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অরজিতের কাছে সার বিক্রির প্রায় ৫ লাখ টাকা পাব। তার কাছে আমি সার বিক্রি করেছি। সে আমার নিয়মিত কাষ্টমার। মোল্লাহাটে সার বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না।’  


চিতলমারী উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বিধান রানা বলেন, ‘সন্দেহ হওয়ায় আমরা ৫০ বস্তা সার আটক করি। পরে ডিলার আব্দুল হক ক্যাশমেমো নিয়ে এলে আটককৃত সার অরজিতকে দিয়েছি।’


চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সিফাত-আল-মারুফ বলেন, ‘এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নের খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রির নিয়ম নেই। এটা অবৈধ ও নিয়ম বর্হিভূত।’


চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি খাদিজা আক্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। আমি কৃষি অফিসারের সাথে কথা বলে খোঁজ নিচ্ছি।’ 
 

@bagerhat24.com