শরণখোলায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
01/01/1970 12:00:00শরণখোলা প্রতিনিধি
শরণখোলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ও জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের ২ নম্বর দক্ষিণ রাজাপুর ওয়ার্ডের দিনমজুর সোবাহান মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই নারীর কান ছিঁড়ে স্বর্ণের দুল ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। জানা যায়, জীবিকার তাগিদে বাড়ির কর্তা সোবাহান মোল্লা ঘটনার রাতে বাইরে ছিলেন। ঘরে ছিলেন তার বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রী মহিমা বেগম (৪০), মেয়ে মরিয়ম (২২) এবং তিন বছর বয়সী এক নাতি।
ভুক্তভোগী মরিয়ম জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিন সদস্যের একদল সশস্ত্র ডাকাত দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ এবং অপর দুজনের মুখমণ্ডল গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তারা ঘরে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা তার গলায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র (দাও) এবং মা মহিমা বেগমের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক মহিমার কান থেকে দুল ছিঁড়ে নেয়। এতে তার কান মারাত্মকভাবে জখম হয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। পরে ঘরে থাকা একটি স্বর্ণের চেইন, একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন, একটি সেলাই মেশিন এবং জমানো নগদ টাকা লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় তারা। যাওয়ার সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ডাকাত দল। ডাকাতদের হাতে অস্ত্র থাকায় ভয়ে পরিবারের সদস্যরা সেসময় চিৎকার বা প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গেলে শারীরিকভাবে নির্যাতিত বাকপ্রতিবন্ধী মহিমা বেগম ইশারায় ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে, ডাকাতির এ ঘটনায় দক্ষিণ রাজাপুর এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মোল্লা ও সিরাজুল খান বলেন, "একজন বাকপ্রতিবন্ধী নারীর ঘরে এমন সশস্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। শরণখোলা এখন মাদককারবারিদের অঘোষিত অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গোটা উপজেলায় মাদকের সিন্ডিকেট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মূলত মাদকের এই টাকা জোগাড় করতেই বেপরোয়া হয়ে ওঠা মাদকাসক্ত যুবকরা গত রাতের মতো এমন রোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে।" তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করার জোর দাবি জানান।
খবর পেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরণখোলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিনয় কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সার্বিক বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীনুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ডাকাতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে আমরা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
