মোরেলগঞ্জে বোতলজাত খাঁটি সূর্যমুখী তেল বাজারজাত হচ্ছে
01/01/1970 12:00:00মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ
মোরেলগঞ্জে বোতলজাত খাঁটি সূর্যমুখীর তেল বাজারজাত হচ্ছে। আর এ খাঁটি সূর্যমুখী তেল এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সেই সাথে সূর্যমুখী চাষে উদ্ভুদ্ধ হচ্ছে সাধারণ কৃষকরা।
সরজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পঞ্চকরন ইউনিয়নের খারইখালী গ্রাম খারইখালী কৃষক সমিতির ৩০ জন সদস্য চলতি বছরে পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেন।উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে জন প্রতি ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ ও ২০ কেজি সার পেয়েছেন এ পার্টনার স্কুলের কৃষক সমিতির সদস্যরা। তারা পতিত জমির ৩৩ শতকের প্রতি বিঘা জমিতে হাইসন ৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষ করেন । জমি চাষাবাদ, শ্রমিক মজুরী, সার বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। মাত্র ১২০ দিনে ব্যবধানে প্রতি বিঘা জমিতে ফলন পেয়েছে ৭ মন করে বীজ। এ বীজ থেকে সূর্যমুখী তেল হয়েছে ২ মন ২৫ কেজি। তারা এ সূর্যমুখী তেল বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী বোতলজাত ও লেবেল দিয়ে বাজারজাত শুরু করে। ২৫০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে এ তেল । প্রতি মন তেল বিক্রী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শ' টাকা করে। ১৬ হাজার টাকা ব্যায় করে ৩১ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন কৃষকেরা। খৈল পাওয়া গেছে ৪ মন। যার বাজারদর ১২ শ' টাকা মন। কৃষকরা নিজেদের সংসারের চাহিদা মিটিয়েও নির্ভেজাল তেল সাধারণ মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিতে পারছেন। অনলাইনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে এ তেল।
সূর্যমুখী তেল উৎপাদনকারী কৃষক খারইখালী গ্রামের কবির আকন, হেমায়েতুল ইসলাম, রেহেনা খানম সহ একাধিক কৃষকরা বলেন একটি মাত্র ফসল ধান উৎপাদন করে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এখন সেই একই জমিতে ধানের পর সূর্যমুখী উৎপাদন করতে পেরে তারা আনন্দিত। কৃষক কবির আকন জানান,তিনি ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ৭৭ হাজার টাকা ব্যায় করে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫শ’ টাকা ঘরে নিতে পারছেন। এরকম প্রতিটি কৃষকই আজ লাভবান হয়েছেন এ ফসল উৎপাদন করে।
পঞ্চকরণ ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সমাদ্দার বলেন, এ ইউনিয়নে একাধিক ফসল উৎপাদনের সহায়তায় কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে ৩৫ জন কৃষকদের কে আধুনিক প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে খারইখালী পার্টনার কৃষক সমিতির ৩০ জন সদস্য একই মাঠে পতিত জমিতে এবারে এ সূর্যমুখী চাষ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছে। তারা নিজেদের সংসারের চাহিদা মিটিয়েও বাজারজাত করতে পারছে। এটি সম্ভব হয়েছে তাদের পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের কারনে। তবে এ ভালো ফলন দেখে আগামীতে সূর্যমুখী চাষে নতুন নতুন কৃষক আরো আগ্রহী হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিধ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার কৃষকদের এক ফসল থেকে একাধিক ফসলে রুপান্তরিত করতে এ বছরে এই প্রথম সূর্যমুখীর চাষাবাদ হয়েছে ১১০ হেক্টর জমিতে। বিশেষ করে একই মাঠে খারইখালী পার্টনার কৃষক সমিতি ৩০ জন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করে তাদের উৎপাদিত তেল বাজারজাত করছেন। সূর্যমুখী এ তেলের যথেষ্ট চাহিদা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের দিতে পারছেনা। তবে পর্যায়ক্রমে উৎপাদিত তেল বাজারজাতকরন বৃদ্ধি পাবে।
