বিআরডিবির দোকান দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর চুনাখোলা বাজারে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত দুপউস প্রকল্পের দোকানঘর দখল, সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধন এবং দীর্ঘদিনের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সুদেব দাস প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিআরডিবি বাগেরহাট সদর কর্তৃক পরিচালিত দুপউস প্রকল্পের অধীনে বারাকপুর বাজারে অবস্থিত ৩ ও ৪ নম্বর দোকানঘরের বৈধ ভাড়াটিয়া সুদেব দাস দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে কাপড় ও জুতার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শামছুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, তিনি ১ জানুয়ারি ২০০৬ সাল থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে দোকান ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শামছুর রহমান বাগেরহাট সদর মডেল থানায় দায়ের করা এক অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের দোকান ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে তারা সরকারি প্রকল্প এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করে অফিস কক্ষের দরজা-জানালা, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী সুদেব দাস অভিযোগ করে বলেন, “কিছুদিন আগে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল বেআইনিভাবে আমার দোকান দখলের চেষ্টা করে। তারা দোকানের সামনে রাস্তার পাশে বালু ফেলে দোকান ও তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। আমার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয়েছে। দোকানের ভেতরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাপড় ও জুতার মালামাল রয়েছে। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় মালামালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এতে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। অথচ আমাকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, “বিআরডিবির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি সম্পত্তি কিংবা বৈধ ভাড়াটিয়ার ক্ষতি হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
