মোংলায় ছানি রোগীদের বাছাই করে উন্নত চক্ষু সেবা চিকিৎসার ব্যবস্থা
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
চোখ অমূল্য সম্পদ, চোখের যত্ন নিন, সুন্দর পৃথিবী উপভোগ করুন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা শিবির। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
শুক্রবার চিলা ইউনিয়নে আয়োজিত এই বিশেষ চক্ষু ক্যাম্পে মাত্র ২০ টাকা ভিজিট ফি দিয়ে চক্ষু রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন।
বাইতুল মামুর ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় এই মানবিক আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের পক্ষে চিলা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নজুড়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে এই চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে অবহিত করা হয় পরে ওয়ার্ডভিত্তিক রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা করা হয় ক্যাম্পে আগত রোগীদের মধ্য থেকে যাদের চোখে ছানি বা অন্যান্য জটিল সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশেষ পদ্ধতিতে বাছাই করা হচ্ছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বাছাইকৃত ছানি অপারেশনসহ চোখের অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চুয়াডাঙ্গার জীবননগরস্থ বাইতুল মামুর চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল’এ স্বল্প খরচে আধুনিক অপারেশনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে রয়েছে দরিদ্র রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
মোঃ সাইফুল শিকদার বলেন, চিলা ইউনিয়নের অনেক মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না তাঁদের সুন্দর পৃথিবী দেখার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাইতুল মামুর ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আমরা মাঠ পর্যায় থেকে রোগীদের চিহ্নিত করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেস্টা করছি ।
বাইতুল মামুর চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের
ডাঃ এস এম শুভ হাসান মেডিকেল অফিসার বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের মধ্যে চোখের জটিলতা নিয়ে অবহেলা বেশি দেখা যায়। আমরা চেষ্টা করছি প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় করে তাদের অন্ধত্বের হাত থেকে বাঁচাতে। যাদের ছানি অপারেশন প্রয়োজন, তাদের আমরা জীবননগরে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
মোঃ তাফহিমুল হোসাইন (পরিচালক) বলেন, বাইতুল মামুর ফাউন্ডেশন সব সময় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। চিলা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের অসহায় রোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
মোঃ সাব্বির হোসেন অর্গানাইজার অফিসার ও প্রিয় বিশ্বাস (কাউন্সিলর অফিসার) বলেন, আমরা ইউনিয়নব্যাপী মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে এই সেবার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। মাত্র ২০ টাকার ভিজিটে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যে খুশি, সেটাই আমাদের সার্থকতা।
এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের আশা, নিয়মিত এমন চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পাবে।
