হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
01/01/1970 12:00:00ফকিরহাট প্রতিনিধি
ফকিরহাট উপজেলার পিলজং ইউনিয়নের পিলজং গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ কাদায় পরিণত হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শত শত পথচারীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে থেকে ঘোষালের গাছতলা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন পিলজং মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পিলজং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা ও পানি জমে থাকে। ফলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে গিয়ে নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াও সম্ভব হয় না।
জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টির সময় রাস্তাটি এতটাই কাদাময় হয়ে পড়ে যে নিরাপদে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় কাদায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ঢালী, হাবিবুর রহমান হবি, মো. সহিদ শেখ, ওহিদুল ইসলাম, তাজুল শেখ এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ আমীরুজ্জামান আলেপ জানান, প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের প্রস্থ বর্তমানে ছয় ফুট। এর মধ্যে কয়েকশ ফুট অংশে পুরোনো ইটের সলিং থাকলেও অধিকাংশ স্থান ভেঙে গিয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘোষালের গাছতলা এলাকার প্রবেশমুখে হাঁটুসমান কাদা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি উন্নয়ন করা হলে এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
