চিতলমারীতে কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার: ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা
01/01/1970 12:00:00চিতলমারী প্রতিনিধি
চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৩০ শতক খাস জায়গা উদ্ধার করেছে। উদ্ধার অভিযানের সময় তাঁরা নির্মানাধীন ৮টি ইমারত ভেঙ্গে অপসারণ করেন। সরকারি জায়গা থেকে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে কলাতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।
আসামীরা বিএনপি, জামায়াত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং এলাকাবাসিরা এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা সদর বাজার সংলগ্ন বোয়ালিয়া ভ্যান স্ট্যান্ডে একটি জায়গার পথ বন্ধকে কেন্দ্র করে আমরা দুটি পক্ষের অভিযোগ পাই। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে দেখি একটি পক্ষ উচুঁ টিনের বেড়া দিয়ে সরকারি জায়গায় পাঁকা ইমারত তৈরি করছে। পরে পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে বোয়ালিয়া মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ১০৭৪ দাগের ৩০ শতক জমি উদ্ধার করেছি। এ সময় ৮ থেকে ১০ টি ইমারত ভেঙ্গে অপসারণ করি। সেই সাথে সরকারি জায়গা থেকে শতাধিক গাছ কাটার অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার জন্য কলাতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুর রহমান জানান, কলাতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দিলে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং-২০। মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জবরুল শেখ বলেন, ‘দুইমাস আগে বোয়ালিয়া গ্রামের বাদশাহ গাজীর কাছ থেকে আমরা ওই জায়গাসহ ১১৬.৮৩ শতক জায়গা ক্রয় করেছি। ওখানে আমাদের স্থাপনা ছিল। ওগুলো মেরামতের সময় ২২ জুলাই দুপুর ২টার সময় উপজেলা প্রশাসন আমাদের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এদিন বিকেল ৫টার সময় অভিযান চালিয়ে আমাদের স্থাপনা গুলো ভাঙ্গা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। এ ছাড়া গাছ কাটা সাথে আমরা জড়িত নই।’
