Logo
table-post
মংলা ভূমি অফিসে নামজারিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাটের মংলা উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ঘুষ দাবি, প্রশাসনিক হয়রানি এবং সেবা প্রাপ্তিতে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সনজিত মজুমদার।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সনজিত মজুমদার। তিনি জানান, পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি সম্পন্ন করার জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও বিভিন্ন কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি কিংবা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, মংলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের এক অফিস সহকারী প্রতিটি নামজারি মামলার জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই অর্থ প্রদান না করলে আবেদন অনুমোদন হবে না বলে তাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সনজিত মজুমদার আরও বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং এতে সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হচ্ছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নজরে আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত তার পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি সম্পন্ন করার দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মংলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশীনা আরিফ বলেন, আবেদনকারীর ওয়ারিশ সংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকায় নামজারি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে সংশোধন করে জমা দিলে নিয়ম অনুযায়ী নামজারি সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় প্রত্যাশিত সেবা সময়মতো না পেলে সেবাগ্রহীতারা বিভিন্ন অভিযোগ করে থাকেন। তবে সব আবেদনই সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই নিষ্পত্তি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

 

@bagerhat24.com