Logo
table-post
মোংলায় ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার ঘোষণা, পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা সাব-ঠিকাদার
01/01/1970 12:00:00

মোংলা প্রতিনিধি
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন মোংলার এক সাব ঠিকাদার। খবর পেয়ে রাতেই তার বাড়িতে ছুটে যায় পুলিশ। পরে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বরিশালে থাকা স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। পুলিশের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত সন্তানদের নিয়ে স্বামীর কাছে ফিরতে আজ রবিবার সকালে মোংলার পথে রওনা হয়েছেন ওই নারী।


শুক্রবার গভীর রাতে মোংলা শহরতলীর সিগনাল টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার ঘোষণা দেওয়া সবুজ ব্যাপারীর বয়স ৩৯ বছর। তিনি পেশায় সাব ঠিকাদার। মোংলা ইপিজেডসহ বিভিন্ন সংস্থায় ঠিকাদারি কাজ করেন তিনি।

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ দিন আগে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বরিশালে বাবার বাড়িতে চলে যান সবুজের স্ত্রী। পরিবারের কেউকে বিস্তারিত না জানিয়ে চলে যাওয়ার পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন তিনি। সবুজের অভিযোগ, তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরসহ যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমও ব্লক করে দেওয়া হয়।


এর আগে ঠিকাদারি কাজের একটি বিল বাবদ পাওয়া ১০ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে রেখে দিয়েছিলেন সবুজ। স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার সময় সেই টাকাও সঙ্গে নিয়ে যান বলে জানান তিনি। একদিকে স্ত্রী-সন্তানদের হঠাৎ চলে যাওয়া, অন্যদিকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় চরম হতাশায় পড়ে যান তিনি।


এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) আসেন সবুজ। সেখানে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা জানান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় মোংলা থানা পুলিশকে।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান। তার নির্দেশে এসআই মোর্শেদ দ্রুত সবুজের অবস্থানস্থলে পৌঁছান।


পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে সবুজের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। তার পারিবারিক সংকটের বিষয়গুলো শোনেন এবং আবেগের মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য তাকে বোঝান। একপর্যায়ে পুলিশের কথায় শান্ত হন সবুজ এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।


এরপর পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক করতে বরিশালে থাকা সবুজের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এসআই মোর্শেদ। তাদের কাছে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরে সন্তানদের কথা বিবেচনা করে দাম্পত্য বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্ত্রীকে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছে ফিরে আসার অনুরোধ করেন।


পুলিশের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রাও। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া পুলিশের এমন ভূমিকা প্রশংসনীয়।


মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, ফেসবুকে লাইভে এক যুবক আত্মহত্যার ঘোষণা দেন। বিষয়টি নজরে আসতেই পুলিশ পাঠিয়ে তাকে আত্মহত্যা থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রী ও সন্তানদেরকে তার কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
 

@bagerhat24.com