Logo
table-post
মোংলা বন্দরের আকরাম পয়েন্টে দুটি ভাসমান এলএনজি ষ্টেশন তৈরী করা হবে:নৌপরিবহনমন্ত্রী
01/01/1970 12:00:00

মোংলা প্রতিনিধি
নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেল মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মোংলা বন্দরের আকরাম পয়েন্টের পাশে ভাসমান দুইটি (এলএনজি) টার্মিনাল তৈরী করার পারিকল্পনা করছে সরকার। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও জ্বালানি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরিদর্শনে এসেছি। নৌপথে ২৩ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে মোংরা-বাগেরহাট ও খুলনা সহ দক্ষিনাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করা হবে। তা হলেই এই অঞ্চলের অর্থনীতি, জ¦ালানী ও বিদ্যুতের চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে। অর্থনীতি হাব তৈরী হবে মোংলা বন্দরে, আমরা চট্ট্রগ্রামকে ছড়িয়ে যেতে চাই, সেই উদ্দোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার। ১৬ আগষ্ট রবিবার দুপুরের পর মোংলা বন্দরের আকরাম পয়েন্ট, মোংলা বন্দর, ইপিজেড, ইকোনোমিক জোন সহ বন্দরের শিল্প প্রতিষ্ঠান পরির্দন শেষে এক সংবার্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাথে নৌপরিবহনমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী এবং (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান নৌপথে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। 

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরো জানান, মোংলাকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্প হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ ও বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। উন্য়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের প্রধান নৌবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্দরের আকরাম পয়েন্টের কাছাকাছি দুটি এলএনজি স্টেশন তৈরি করা হবে, যা থেকে ২৩ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হবে। এর ফলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে। 

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে মোংলা বন্দরে নতুন জেটি তৈরির জন্য চীন সরকারের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার কাজ আগামী ১৮ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ারও কথা রয়েছে। এছাড়া মোংলা নদী পারাপারের জন্য ব্রিজ নির্মাণ, বন্দর সংলগ্ন ইকোনমিক জোন চালু এবং মোংলা বন্দর থেকে একটি ফোর-লেন সড়ক তৈরি করা হবে। ইকোনমিক জোন চালু হলে প্রথম শেষনে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্তান তৈরী হবে। আর পুর্নাঙ্গভাবে মিল-কলকারকানা চালু হলে প্রায় ৬০ হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্তানের ব্যাবস্তা হবে বন্দর সংলগ্ন এই ইকোনমিক জোনে।  


বন্দর চেয়ারম্যান আমাকে বলার সাথে সাথে সড়কের প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, দুই মাসের মধ্যেই ফোর-লেন সড়কের কাজ শুরু হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রথমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোংলা-রামপালের এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলে জানান নৌপরিবহন মন্ত্রী। এসময় সাথে ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সহ সরকারের অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বন্দর পরির্দশন শেষে বিকালে পৌর বিএনপির আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় যোগদেন দেন মন্ত্রী। পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেল মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মহোদয়-কে মোংলা পৌর বিএনপি'র পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এসময় বাগেরহাট জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও সমন্বায়ক এম, এ সালাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফ্ফার হোসেন, আহবায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম খান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি হারুন আর রশিদ, মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান তুহিন, মোল্লারহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কামাল কারিম সহ জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক। 
 

@bagerhat24.com