পড়ায় ভুল, শিশুকে বেত-পাইপ দিয়ে পেটানোর অভিযোগ: হাসপাতালে ৭ বছরের মাদরাসাছাত্র
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি আবাসিক মাদরাসায় ৭ বছরের এক শিশুশিক্ষার্থীকে পড়া না পারার অভিযোগে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় আজিজুল নামে ওই শিশুকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার দারুস সুন্নাহ আবাসিক মাদরাসায় ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির স্বজনরা।
আহত আজিজুল রায়েন্দা ইউনিয়নের পশ্চিম খাদা গ্রামের সুজন হাওলাদার ও মারুফা খাতুনের ছেলে। হাফিজি পড়াশোনার জন্য তাকে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ওই মাদরাসায় ভর্তি করা হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে পড়া না পারায় আজিজুলকে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করেন শিক্ষক কামরুল ইসলাম। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত ও কালশিটে দাগের সৃষ্টি হয়। মারধরের পর ব্যথায় রাতে শিশুটি ঘুমাতেও পারেনি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
শিশুটির মামাতো ভাই রাকিবুল আকন বলেন, ঘটনার পর প্রায় দুই দিন পেরিয়ে গেলেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি এবং শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয়নি। এমনকি বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিবুল জানান, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ম অনুযায়ী দুই সপ্তাহ পরপর বৃহস্পতিবার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী ২৭ আগস্ট সকালে আজিজুল বাড়িতে ফেরে। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে সে মাদরাসায় মারধরের বিষয়টি জানায়। পরে তার পোশাক খুলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহ জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে দারুস সুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সিফাতুল্লাহ বলেন, শিশুটিকে মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত শিশুটির খোঁজখবর নিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়ের হলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
