‘ধলাপাহাড়’ এখন ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে
01/01/1970 12:00:00এস এম নূর ইসলাম
বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খাঞ্জেলী দীঘির প্রবীণ কুমির ‘ধলাপাহাড়’ এখন নতুন আবাসে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় বিশেষ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার উদ্দেশ্যে কুমিরটিকে খুলনা থেকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ধলাপাহাড়কে নতুন আবাসস্থলে নেওয়ার পর সেখানে অবমুক্ত করা হয়। বর্তমানে সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কুমিরটির শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বয়সের ভারে ধলাপাহাড়ের শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তার চোখ ও চামড়ায় সমস্যা থাকায় প্রয়োজন হচ্ছে নিয়মিত চিকিৎসা এবং বিশেষ পরিচর্যার। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বন বিভাগ কুমিরটিকে এমন একটি পরিবেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের পাশের ঐতিহাসিক খাঞ্জেলী দীঘি দীর্ঘকাল ধরে মিষ্টি পানির কুমিরের জন্য পরিচিত। স্থানীয় লোককথা ও প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় নামের দুটি কুমিরকে কেন্দ্র করেই এই দীঘিতে কুমিরের বংশ বিস্তার শুরু হয়েছিল।
সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহাসিক বংশের পুরোনো প্রতিনিধিদের মধ্যে ধলাপাহাড়ই ছিল সবচেয়ে প্রবীণ। ফলে কুমিরটির অসুস্থতা শুধু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয় নয়, খাঞ্জেলী দীঘির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত।
বর্তমানে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে ধলাপাহাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, চিকিৎসা ও বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী চিকিৎসকরা নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছেন এবং বয়সজনিত জটিলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, সাফারি পার্কের উপযোগী জলাধার ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ধলাপাহাড়ের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নিবিড় পরিচর্যা ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে প্রবীণ এই কুমিরটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে বলেও তারা আশাবাদী।
