Logo
table-post
তিন মাস পর খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার
01/01/1970 12:00:00

মাসুদ রানা,মোংলা 
তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে  সুন্দরবনের নয়নকাড়া স্পটগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা এবং  জীবিকার তাদিগে জেলেরা নদী-খালে প্রবেশ করতে পারবেন। সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার এই খবরে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

 ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক ও জেলেদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এই সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটকেরা আবারও বনের অভয়ারণ্য ছাড়া সব দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সাথে বনের নদী ও খালে মাছ ধরার অনুমতি পাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা।

 সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের  চাঁদপাই রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটন ও মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে-বাওয়ালিদের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত পরিবার ধারদেনা ও  সুদে ঋণ নিয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করেছেন। বন খুলে দেওয়ায় তাদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে।

স্থানিয় জেলেরা জানিয়েছেন, পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। গভীর বনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষায় বন বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত যৌথ টহল বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের   বিভিন্ন এলাকার ট্রলার ও বোট মালিকেরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ,  বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,  বনজীবীদের পাস প্রদান এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় যাবতীয় দাপ্তরিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বনের অভয়ারণ্য ঘোষিত অঞ্চলগুলোতে আগের মতোই প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ও প্রযুক্তিনির্ভর। দুর্গম বনাঞ্চলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও স্মার্ট প্যাট্রোলিং জোরদার করার পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে। ফলে হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, নদী-খালের মাছ সহ সুন্দরবনে  বেড়েছে  হরিণ। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি হরিণসহ সব প্রাণীর অবাধ বিচরণ ও প্রজনন বেড়েছে।  মানুষের আনাগোনা কমে আসায় নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। কৃত্রিম শব্দদূষণ, অতিরিক্ত পর্যটন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ কমে যাওয়ায় বনের গহিন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর  রূপান্তর দেখা যাচ্ছে।সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধিতে  এই বার্ষিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে আসছে।

 

@bagerhat24.com