Logo
table-post
সালিশে মীমাংসার বদলে হামলা! বাগেরহাটে বাবা ও দুই ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে জমি-জমা ও প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে বাবা ও তাঁর দুই ছেলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে তাঁদের আহত করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট বাদুরা গ্রামে। আহতরা হলেন ওই গ্রামের আবদুর রশিদ হাওলাদার এবং তাঁর দুই ছেলে মো. আল-আমিন ও মো. রবিউল ইসলাম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে ধান ব্যবসায়ী আবজালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আবদুর রশিদ হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর ভাই আব্দুল লতিফের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে আবদুর রশিদকে মারধর করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

বাবাকে মারধরের কারণ জানতে গিয়ে চাচা আব্দুল লতিফের সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে আল-আমিন ও রবিউল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সালিশ চলাকালে আব্দুল লতিফের নির্দেশে তাঁর শ্যালকের ছেলে তারেকসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় আবদুর রশিদ, আল-আমিন ও রবিউলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত আল-আমিনের দাবি, হামলার সময় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং চিকিৎসকরা চারটি সেলাই দিয়েছেন। এছাড়া তাঁর চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত রয়েছে বলে তিনি জানান।

আল-আমিন বলেন, “প্রথমে আমার বাবাকে মারধর করা হয়। এর কারণ জানতে গেলে চাচার সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশে বসা হয়। কিন্তু সালিশ চলার সময়ই কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর চাচা আব্দুল লতিফের নির্দেশে তারেকসহ কয়েকজন তাঁদের মারধর করেছেন।

আহত রবিউল ইসলাম বলেন, জমি-জমা নিয়ে চাচার পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর আগেও কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর দাবি। সর্বশেষ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। পরে সালিশে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানেই তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

রবিউলের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাঁদের গালিগালাজ করা হয় এবং টাকা-পয়সার প্রভাব দেখিয়ে পুলিশকে ভয় দেখানোর মতো কথাও বলা হয়েছে।

 

@bagerhat24.com