Logo
table-post
গ্রাম আদালতের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা
01/01/1970 12:00:00

​স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি জোরদার করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এক ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন,রামপাল  বাগেরহাট এই সভার আয়োজন করে।

​সভায় সভাপতিত্ব করেন রামপাল উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মনিরুল হক সরদার। এতে রামপাল উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ (সচিব) অংশগ্রহণ করেন।

​সভায় সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী গ্রাম আদালতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। 

​"গ্রাম আদালত হলো প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের অল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে বিচার পাওয়ার প্রধান আশ্রয়স্থল। গ্রামীণ পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতি সপ্তাহে নিয়ম মেনে আদালতের অধিবেশন বসাতে হবে এবং কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে।"

​"গ্রাম আদালতে মামলার হার বা আবেদনের সংখ্যা বাড়াতে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্থানীয় মানুষ যেন মামলা নিয়ে সোজা আদালতে না গিয়ে আগে গ্রাম আদালতে আসেন, সেজন্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। প্রচার কার্যক্রম জোরদার করে বিচারপ্রার্থীদের ট্রাস্ট বা আস্থা তৈরি করতে হবে।"

​"গ্রাম আদালতের সকল নথিপত্র ও রেজিস্টার শতভাগ নিখুঁত এবং সবসময় আপডেট (হালনাগাদ) রাখতে হবে। মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে রায় প্রদান ও বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত ফরম ও রেজিস্টারে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এখানে কোনো প্রকার অবহেলা সহ্য করা হবে না।"

​"ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক মূল চালিকাশক্তি। গ্রাম আদালত সফল করতে আপনাদের সার্বক্ষণিক মনোযোগ ও নিষ্ঠা প্রয়োজন। প্রতিটি পাক্ষিক ও মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন সময়মতো উপজেলা প্রশাসনে দাখিল নিশ্চিত করতে হবে।"


​সভায় ১০টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতের বকেয়া মামলা নিস্পতি, গ্রহণকৃত মামলার অগ্রগতি এবং সরেজমিন তদারকির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে পূর্ণ সক্রিয় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সভা শেষ হয়।
 

 

@bagerhat24.com