Logo
table-post
মোরেলগঞ্জে শিক্ষকদের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৬ জন সাময়িক বরখাস্ত
01/01/1970 12:00:00

 মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ
 শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) ফান্ডের থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা ৪ জন সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ২ জন সাবেক অডিটরসহ মোট ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

  জানা গেছে, মোরেলগঞ্জের কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে তাদের হিসাবের সঙ্গে গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি নজরে এলে মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য খুলনার ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির তদন্তে মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের সাবেক ৪ হিসাব রক্ষন অফিসার ও ২ অডিটরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার ২০০ টাকা সরকারি তহবিল থেকে জালিয়াতি করার চ্যাঞ্চল্যকর অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে । 

  সরকারি টাকা লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ৪ জন সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ২ জন সাবেক অডিটরসহ মোট ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯, উপধারা-০১ অনুযায়ী এই ৬ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোট ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার ২০০ টাকা সরকারি তহবিল থেকে জালিয়াতি করা হয়েছে।

   উপজেলা সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মীর এনামুল হক অনলাইন সিস্টেমে নিজ ইউজার পাসওয়ার্ডব্যবহার করে ৫২ টি জিপিএফ ফান্ডের অগ্রিম বিলের বিপরীতে একাই হাতিয়ে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা। সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সৌমেন সরকার একই কায়দায় ৩ টি জিপিএফ অগ্রিম বিলের মাধ্যমে ১৭ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতি করেছেন। সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্ত মদন কুমার দাস ৫ টি জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ১২ লক্ষ ৮৫ টাকা জালিয়াতি করেছেন। সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ২ টি জিপিএফ ফান্ডের অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতি করেছেন। সহযোগী হিসেবে  অডিটর শ্যামল কুমার দাস ২০২২-২০২৩ হতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে মোট ৬৫টি ভুয়া বিল তৈরি করে ৪ কোটি ৮১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা জালিয়াতি করেছেন। অডিটর রুবেল মোল্লা ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লক্ষ ২১ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফ জালিয়াতি করেন। 

  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস, খুলনা কার্যালয় থেকে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই সুসংগঠিত চক্রের ভয়াবহ অর্থ লোপাটের চিত্র উঠে আসে। আদেশে বলা হয়েছে, বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে তারা প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা কেউই স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে যেকোনো সময় উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।  

  সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, জিপিএফের অর্থ নিয়ে এ ধরনের লেনদেনের বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না। ঋণ উত্তোলনের সময় হিসাব যাচাই করতে গিয়ে তারা গরমিল দেখতে পান। কোনো কোনো শিক্ষকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তারা জানান। 

  এ ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার তন্ময় গোস্মামী বলেন তিনি অত্র অফিসে যোগদান করার পরে এ ঘটনা ধরা পরেছে। তিনি বলেন এতবড় অংকের টাকা তছরুপ হওয়ায় অবাক হয়েছেন। এ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ায় নিজের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

@bagerhat24.com