Logo
table-post
গেজেটভুক্তির অপেক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোশারেফ
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাগেরহাট সদর উপজেলার সুন্দরঘোনা গ্রামের মীর মোশারেফ আলী। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মীর মোশারেফ আলী জানান, ১৯৭১ সালে তিনি ইপিআরে (EPR) কর্মরত ছিলেন এবং ঢাকার পিলখানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরু হলে তাদের মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজে আটক রাখা হয়। সেখানে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

মীর মোশারেফ আলীর ভাষ্য, পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে লৌহজং থানায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গভীর রাতে তিনি একটি এলএমজি, একটি .৩০৩ রাইফেল ও গোলাবারুদ নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. ইকবাল হোসেনের কাছে যান। সেখানে তিনি সঙ্গে নিয়ে আসা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন। এরপর ‘গোয়ালিবান্ধি অপারেশন’সহ বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জের দিঘীরপাড় ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও পালন করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মীর মোশারেফ আলী।

স্বাধীনতার পর ভারত থেকে এমপি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন দেশে ফিরলে প্রায় ৩০০ মুক্তিযোদ্ধার সাব-কমান্ডার হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ

মীর মোশারেফ আলী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আবার বিডিআরে যোগ দেন। পরে দীর্ঘ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

তার দাবি, গত প্রায় ২০ বছরে চার দফা যাচাই-বাছাইয়ে তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ‘ক’ গ্রুপে তার নাম রয়েছে। এরপরও অজ্ঞাত কারণে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে তার ফাইলের নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে এখনো সরকারি গেজেটে তার নাম প্রকাশিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সেগুলোকে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সরকারি স্বীকৃতির আবেদন

সংবাদ সম্মেলনে মীর মোশারেফ আলী জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তার নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

@bagerhat24.com