চিতলমারীতে জমির দলিল করতে গিয়ে ধরা পড়ল ৮ জাল দাখিলা, রেজিস্ট্রি স্থগিত
01/01/1970 12:00:00চিতলমারী প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল রেজিস্ট্রির জন্য জমা দেওয়া ৮টি অনলাইন দাখিলা জাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। দাখিলাগুলো যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট জমির দলিল রেজিস্ট্রি স্থগিত করেছে সাব-রেজিস্ট্রি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জাল দাখিলাসহ দলিলের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির একটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নথি জমা দেওয়া হয়। দলিল লেখক মুন্সি দেলায়ার হোসেন নথিটি দাখিল করেন।
নথিপত্র যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ৮টি অনলাইন দাখিলার তথ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরবর্তীতে যাচাই করে এসব দাখিলা জাল বলে শনাক্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই জমির দলিলের রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং দাখিলাসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
সাব-রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকার আরও জানান, আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দলিল লেখক মুন্সি দেলায়ার হোসেনের কাছে দাখিলা জাল হওয়ার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তাঁর জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দলিল লেখক মুন্সি দেলায়ার হোসেন বলেন, তাঁর সহকারী দলিল লেখক সুব্রত রায় দাখিলাগুলোসহ নথিটি তাঁর কাছে দেন। পরে তিনি নথিতে স্বাক্ষর করে দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করেন।
সহকারী দলিল লেখক সুব্রত রায়ের ভাষ্য, বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমি রেজিস্ট্রির জন্য দাতা শাকিরুল বেগম ও গ্রহীতা মো. মাসুম কাজী তাদের কাছে আসেন। জমির ক্রেতা মাসুম কাজীই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দাখিলাগুলো তাদের সরবরাহ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
জমির গ্রহীতা মো. মাসুম কাজী জানান, বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির মূল্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দলিল রেজিস্ট্রির জন্য তিনি দলিল লেখককে ৮১ হাজার টাকা দেন এবং ১৬ হাজার টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ওই ৮টি দাখিলা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন।
চিতলমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খান মিনরুজ্জামান ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাল দাখিলা তৈরির সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
এদিকে হিজলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে বোয়ালিয়া মৌজায় খাজনা আদায় ও দাখিলা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাকে কেউ অবহিত করেননি। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কেউ জাল দাখিলা জমা দিয়ে থাকলে সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে জানান তিনি।
জাল দাখিলাগুলোর উৎস, এগুলো কীভাবে তৈরি বা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের পরই বিস্তারিতভাবে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
