Logo
table-post
খবর প্রকাশের পর অপচিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রী লাভলী পেল ক্ষতিপূরণ
01/01/1970 12:00:00

চিতলমারী প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে খবর প্রকাশের পর অপচিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রী লাভলী ঘরামী চিকিৎসা বাবদ ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার লাভলী ঘরামীর স্বামী সমরেশ ঘরামীর হাতে এ টাকা তুলে দেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষের শুনানী শেষে উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাবিবা ক্লিনিক এন্ড বারিশ ডায়াগনস্টি সেন্টারের মালিক পক্ষকে এ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছিলেন।


চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, প্রসূতি লাভলী ঘরামীর অপচিকিৎসার খবর বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও পত্রিকায় প্রকাশ এবং লাভলী ঘরামীর স্বামী সমরেশ ঘমারী অভিযোগর ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রটকে শুনানীর দায়িত্ব দেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডেপুটি সিভিল সার্জন, চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, আইনজীবি, বাদী, বিবাদী ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শুনানী করেন। সেই শুনানীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর হাবিবা ক্লিনিক এন্ড বারিশ ডায়াগনস্টি সেন্টারের মালিক পক্ষের চিকিৎসা বাবদ ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। ওই ক্লিনিকের মালিক পক্ষের অমিত কুমার মন্ডল, মোঃ সাব্বির আহম্মেদ রুপম ও মোঃ রফিকুল শেখ ২৮ সেপ্টেম্বর তার কার্যালয়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতেই লাভলী ঘরামীর স্বামী সমরেশ ঘরামীর হাতে ৪ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাবিবা ক্লিনিক এন্ড বারিশ ডায়াগনস্টি সেন্টারের কাগজপত্র ও অপারেশনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সঠিক আছে কিনা সেটি সিভিল সার্জন তদন্ত করছেন।   


গত ২৭ জুলাই মোবাইলে আলো জ্বেলে প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে লাভলী ঘরামী (২৯) নামের এক প্রসূতির অস্ত্রপচার (অপারেশন) করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় হাবিবা ক্লিনিক এন্ড বারিশ ডায়াগনস্টি সেন্টারের স্যাকমো অমিত মন্ডলের বিরুদ্ধে ওই রোগীর স্বজনেরা এ অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল অমিত মন্ডলের অপচিকিৎসায় লাভলী ঘরামী মৃত্যুশয্যায়। অস্ত্রপচার করতে গিয়ে লাভলী ঘরামীর জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে এবং মূত্রথলি ছিদ্র করেছে। বেঁচে নেই তাঁর নবজাতকটি। সে আর কোন দিন মা হতে পারবেন না। লাভলী ঘরামী উপজেলার চরবানিয়ারী রানাপাড়া গ্রামের শমরেস ঘরামীর স্ত্রী। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট গত ৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও টেলিভিশনে প্রচারের পর জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 
 

 

@bagerhat24.com