বাগেরহাটে আদালতের রায় অমান্য করে বৃদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা, বালু ফেলে নিঃস্ব পরিবার
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কচুড়িয়া গ্রামে আদালতের রায় ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক অসহায় বৃদ্ধার জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টায় ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানা যায়, চিতলমারী উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৬৮) তার নিজ ও স্বামীর নামে থাকা ভোগদখলীয় জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের মুখোমুখি। তার জমিটি কচুয়া উপজেলার সোনাকান্দর মৌজায় অবস্থিত হওয়ায় তিনি কচুয়া সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা (নং-১১/২০১৯) দায়ের করেন। আদালত রিজিয়া বেগমের পক্ষে রায় প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিবাদী সোবাহান শেখ গং উচ্চ আদালতে দেওয়ানী আপিল (নং-১৩৪/২০২৪) করলে সেখানেও পূর্বের রায় বহাল থাকে।
রিজিয়া বেগমের একমাত্র ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন এবং চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পুরুষশূন্য এই পরিবারটিতে বৃদ্ধা নারী তার পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ সুযোগে এলাকার মৃত আঃ হামিদ শেখের ছেলে সোবাহান শেখ (৭০), রিপন শেখ (৩৫) ও জামাল শেখ (৩০)-সহ একটি প্রভাবশালী মহল আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে বারবার জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে বিবাদীরা জোরপূর্বক রিজিয়া বেগমের ভোগদখলীয় জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু ভরাট শুরু করে। এতে জমিতে থাকা ঘেরের গলদা ও সাদা মাছের পোনাসহ বিভিন্ন ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া এবং ঘেরের মাছ চুরির মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে বিবাদীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, জমিটি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য আমরা চিতলমারী থানায় বসবাসকারী হিসাবে চিতলমারী থানায় ৪ বার অভিযোগ দিলে কেউ কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। সর্বশেষ ১৮-০৫-২০২৬ তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিমাংসা করার জন্য সাব ইনস্পেকটর ইমন সাহেব ও স্থানীয় সার্ভেয়ার (আমিন) ইমদাদুল হককে দায়িত্ব দেন। মীমাংসিত বিষয়ের সমাধান করতে সে মোতাবেক তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ তারিখে ডেট করি স্বর-জমিনে গিয়ে জমি পরিমাপ করে সমাধানের। আমরা ব্যর্থ হই। এবং আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেনি বরংচ অপমান করেছে। রিজিয়া বেগম আরো জানায়
উল্টো স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কচুয়া এসি ল্যান্ড অফিসের হেড ক্লার্ক মো.জাহিদ আল মামুনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় তারা আরও বেপরোয়া হয়েছে। আইন ও আদালতের রায় বাস্তবায়নসহ প্রভাবশালী চক্রটির হাত থেকে স্বামী এবং নিজের সম্পত্তি রক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচ্চ মহলের আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় রিজিয়া বেগম ও তার পরিবার।
