জমে উঠেছে কচুয়ার আগাম সুপারি হাট
01/01/1970 12:00:00শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে জমে উঠেছে আগাম উঠতি কাঁচা-পাকা সুপারির হাট। বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বাধাল হাট জেলার অন্যতম বৃহৎ সুপারির বাজার। সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও বৃহস্পতিবার বসে এই হাট। প্রতি হাটে কোটি টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়।
বাধাল অঞ্চলটি লবণ ও মিষ্টি পানির মিশ্রিত এলাকা। এখানকার সুপারি খেতে সুস্বাদু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এর চাহিদা অনেক বেশি, যা দেশজুড়ে “বাগেরহাটের সুপারি” নামে পরিচিত। এ অঞ্চলের সুপারি রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির উৎপাদন কম হলেও বাজারমূল্য বেশ ভালো।
রোববার সকালে সরেজমিনে বাধাল হাটে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান ও ইজিবাইকে করে বস্তা ও ঝুঁড়িভর্তি সুপারি নিয়ে হাটে আসছেন সুপারিচাষি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। চলছে দামদর ও কেনাবেচা। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে মজুত করছেন।
পার্শ্ববর্তী হোগলাপাশা, বনগ্রাম, দাশখালী ও কদমতলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এ বাজারে সুপারি বিক্রি করতে আসেন কৃষকেরা। বাধাল গ্রামের সুপারিবিক্রেতা আবদুল জলিল শেখ জানান, এ বছর তাঁদের সুপারির ফলন অনেক কম হয়েছে, তবে বর্তমান বাজারদর বেশ ভালো। রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলম শেখ নামের এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, তাঁরা গৃহস্থদের কাছ থেকে সুপারি কিনে এ হাটে বিক্রি করেন। প্রতি কুড়িতে তাঁদের ৩০ থেকে ৪০ টাকা লাভ হয়। আকারভেদে প্রতি কুড়ি (২৩১টি) সুপারি ৭০০ থেকে ১,১০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। তবে আজকে বাজারদর কিছুটা কম।
সুপারি ব্যবসায়ী অসিত দাস বলেন, “বাধাল হাট থেকে সুপারি কিনে আমরা সরাসরি রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিক্রি করি। বাজারে নতুন সুপারি উঠতে শুরু করেছে এবং এখন বাজার ভালো আছে। এ বছর সুপারি উৎপাদন কম। আকারভেদে প্রতি বস্তায় ১২ থেকে ২০ কুড়ি সুপারি ধরে। বর্তমানে প্রতি হাটে ৩০০ থেকে ৫০০ বস্তা সুপারি উঠছে। প্রতি হাটে সুপারির দাম বাড়ছে। এভাবে দাম বাড়লে ব্যবসায়ী ও চাষি উভয়েই লাভবান হবেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকাশ বৈরাগী জানান, বাগেরহাট জেলার মধ্যে কচুয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদিত হয়। এ বছর ১ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির ফলন কিছুটা কম হয়েছে।আমরাও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
