বাগেরহাট থেকে পঞ্চগড়—দেশজুড়ে হাজারো শিল্পকারখানা গড়ার অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
01/01/1970 12:00:00পি.কে.অলোক, ফকিরহাট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খুলনা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এর মাধ্যমে দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকায় এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একসময় খুলনা একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে বহু মিল-কারখানা ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে বিভিন্ন কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চাই বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে। এতে শুধু কর্মসংস্থানই হবে না; বছরের পর বছর অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে দিনরাত কাজ করছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকার কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ নিজের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে, কিছু লোক কারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছে। গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ধ্বংস করছে।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ৫০ বছরে দেশে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। একটি মহল নিজেদের স্বার্থে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায়। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরও সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, সোমনাথ দে ও ফকিরহাট উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, প্রমুখ।
